নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেরপুরে প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি ও পাচারের অভিযোগে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। মামলার বাদীকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন টেলিফোনে ধমক দিয়েছেন—এমন অভিযোগসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন জেলা প্রশাসক।
দৈনিক জাহান-এর সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দাবি করেন, সারের সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে বদলির ঠিক আগমুহূর্তে কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি করেছেন। তবে এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, তিনি ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল শেরপুর জেলায় যোগদান করেন। অন্যদিকে, কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ২০২৬ সালের ৮ জুলাই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিষয়বস্তু চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সারের সংকটসংক্রান্ত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন প্রশ্ন তুলে বলেন, সারের সংকটের সময় দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কৃষি কর্মকর্তা কেন তখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি এবং পরে এসে মামলাটি দায়ের করলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ডিলারদের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন
জেলা প্রশাসক আরও দাবি করেন, মামলার পর সার ডিলারদের একটি পক্ষ তাঁর কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ করেছে। তাঁদের অভিযোগ, ডিলারদের বৈধ রেজিস্টার ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক ডিলারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও তাঁর কাছে এসেছে।
ফৌজদারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং প্রযোজ্য নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেলা প্রশাসক। তাঁর ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের বিষয়টিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
বর্তমানে সারের সংকট নেই বলে দাবি ডিসির
বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলায় সারের কোনো সংকট নেই বলেও দাবি করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
