নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ এর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় দীর্ঘ সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন। ফিরেই ১৯ অক্টোবর ২০২৬,সোমবার ছুটলেন কক্সবাজার। পরদিন সেন্ট মার্টিন হয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে! আবু সাঈদ শিশুর ফেইসবুক এর লেখা থেকে বাপসনিউজ জানিয়েছে,
সেনাপ্রধান আমেরিকাতেও তো সমুদ্র আছে, মাছও আছে। এত দূর সফর করে এলেন, ওখানে দুই-চারটা মাছ ধরে আনলেই তো পারতেন!
কিন্তু না! মাছ ধরতে হবে সেন্ট মার্টিনের গভীর সমুদ্রে। তাও আবার সঙ্গে নিতে হবে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক, সামরিক অপারেশনস বিভাগের পরিচালকসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে!
আচ্ছা, মাছগুলো কি এতই বিপজ্জনক যে সামরিক গোয়েন্দা আর অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযানে নামতে হলো?
নাকি মাছগুলো পানির নিচে এমন কোনো গোপন তথ্য নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা উদ্ধার করতে সামরিক গোয়েন্দাদের উপস্থিতি জরুরি?
আরেকটা কথা, মাছ ধরার অভিযানের এত গোপনীয়তা কেন? মাছগুলো কি আগে থেকে খবর পেলে পালিয়ে যেত?
২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও নাকি একইভাবে সেন্ট মার্টিন গিয়েছিলেন। এবারও সেই সেন্ট মার্টিন!
দেশে এত নদী, এত সমুদ্রসীমা থাকতে সেন্ট মার্টিনের মাছের প্রতি এত টান কেন, সেটাই বুঝতে পারছি না।বাপসনিউজকে আবু সাঈদ শিশু জানিয়েছেন ।
আর নিরাপত্তার বিষয়টাও একটু জানতে ইচ্ছা করে। দেশের সেনাপ্রধান যখন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গভীর সমুদ্রে যান, তখন তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা কী থাকে? সফরটি কি সরকারি দায়িত্বের অংশ, নাকি ব্যক্তিগত বিনোদন? সরকারি আয়োজন হলে জনগণ কি অন্তত উদ্দেশ্যটা জানতে পারে না?
আমেরিকা থেকে ফেরার পরপরই এমন সফরের সময় নির্বাচনটাও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।
আবু সাঈদ শিশু আরোও জানিয়েছেন তিনি অবশ্য মাছ ধরার বিরোধী নন ।সেনাপ্রধান চাইলে মাছ ধরবেন, রান্না করবেন, খাবেন। কিন্তু একটা অনুরোধ করেছেন,এত বড় আয়োজন করে মাছ ধরতে গেলে অন্তত মাছের ছবিটা জাতিকে দেখাবেন!
কারণ এত বড় সামরিক আয়োজনের পর যদি মাছের ঝুড়িটাই খালি থাকে, তাহলে জনগণের প্রশ্নের জাল থেকে বের হওয়া কিন্তু কঠিন হবে!
শেষে একটা কথাই জানতে চাই, সেনাপ্রধান সাহেব—সেন্ট মার্টিনে আসলে কোন মাছ ধরতে গিয়েছিলেন?
