শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালটিতে ৮৭ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৭ জন। অন্যদিকে, হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩১১ জন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। 
ঐপ্রাপ্ত তথ্যমতে, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগেই ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রতিনিয়ত বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে রোগীদের প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন ঘাটতি শেরপুরের সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, গতকাল সারাদেশে ৮৭ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) পদে পদায়নের আদেশ জারি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই পদায়নে শেরপুর জেলা হাসপাতালের জন্য কোনো চিকিৎসক বরাদ্দ না থাকার তথ্য সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জেলার হাসপাতালটিতে যখন রোগীর চাপ বেশি এবং চিকিৎসকের সংকট প্রকট, তখন নতুন চিকিৎসক পদায়নের ক্ষেত্রে শেরপুর কেন অগ্রাধিকার পেল না—এমন প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ বা পদায়ন, শূন্য পদ পূরণ এবং রোগীর চাপ বিবেচনায় চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মেডিসিন বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
শেরপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের মাধ্যমে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা হবে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অথচ চিকিৎসক সংকট কাটছে না—এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান এখন সময়ের দাবি। শেরপুরের মানুষও যেন দেশের অন্যান্য জেলার মানুষের মতো প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
